কালো অসুখ

                     



৪ঠা জুন ২০১৯

আজ সকালে হঠাৎই তৃষার ফোন এসেছিল।  অনেকদিন পর ফোন করলো আজ। কাজের ব্যস্ততার জন্য আমারও খোজ নেওয়া হয়নি। তবে আজ গলাটা স্বাভাবিক মনে হলো না। কেমন যেন ভয় পেয়েছিল। বলছিল ওর সৎ মা নাকি ওকে মারার চেষ্টা
করছে। আমাকে বারবার অনুরোধ করছিল আমি যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কলকাতায় ফিরে ওর সাথে দেখা করি। ভাবছি ফ্লাইটের টিকিটটা কেটেইনি। একেবারে বাড়িতেও দেখা করে আসবো।

৭ই জুন ২০১৯

কালকের ফ্লাইটে কলকাতা যাচ্ছি। মাকে জানিয়ে দিয়েছি।  মা খুব খুশি তবে তৃষার কথা শুনে একটু চিন্তাও করছে।  তৃষাকেও ফোন করেছিলাম কিন্তু ও ধরলো না। আমাদের আলাপ কলেজে। আমরা ছিলাম বেস্ট ফ্রেন্ড।  কিন্তু হঠাৎ করে কোনো এক রোগে ওর মা মারা যায়।  তারপর ওর বাবা আবার বিয়ে করেন। তারপর থেকেই তৃষা কেমন একটা হয়ে যায়।  শেষ দিকে ও কলেজও আসতো না।  কলকাতা ছাড়ার আগে শুনেছিলাম ও খুব অসুস্থ।

৯ই জুন ২০১৯

কাল এতো ক্লান্ত ছিলাম যে লেখা হয়নি। আজ তৃষার বাড়ি গেছিলাম।  কিন্তু তৃষা ছিল না। ওর সৎ মা ছিল। ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। দেখে মনে হলো আমি গেছি বলে উনি খুশি হননি। কিন্তু একটা জিনিস আজব লাগলো।  আমি ওনাকে প্রথম দেখলাম তবুও মনে হলো আগে কোথায় যেন দেখেছি।

১১ই জুন ২০১৯

কাল তৃষা ফোন করে রাজীবদার চায়ের দোকানে ডেকেছিল। ওর চোখ মুখ কেমন শুকিয়ে গেছে। চোখে মুখে ভয়ের ছাপ। ওর কথা শুনে বুঝলাম ওর সৎ মা কালো জাদু করে কোনো শয়তানকে ডেকে এনেছে।  যে ওকে মারতে চায়।  কিন্তু আমার এসবে বিশ্বাস নেই।  তাই ওকে অনেক বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছি কাল। আজ সন্ধ্যেবেলা আবার তৃষার বাবা ফোন করেছিলেন। কাল তৃষার জন্মদিন তাই সন্ধ্যেবেলা ওদের বাড়ি যেতে বললেন। তৃষারও ভালো লাগবে।  কিন্তু ওর সৎ মা তো আমাকে পছন্দ করেন না।

১২ই জুন ২০১৯ 

এখন আমি তৃষার বাড়িতে।  আজ আর ফেরা যাবে না বলে থেকেই গেলাম। ডায়েরিটা ব্যাগে রয়ে গেছিল।তাই ভাবলাম তৃষা যতক্ষণ না ফ্রেশ হয়ে আসছে লিখে নিই।এই বাহানায় দুই বন্ধু অনেকদিন পর আড্ডা দেবো জমিয়ে। আজ তেমন কিছু ঘটেনি। তৃষার সৎ মা বাড়িতে ছিল না। তবে শুনলাম তৃষার বাবা কাউকে ফোনে বলছিলেন "তুমি এখানে নেই ভাগ্যিস"।  আরেকটা জিনিস দেখলাম তৃষা খাওয়ার পর অনেক ওষুধ খেল।  কীসের কে জানে।


-দেখুন ডায়েরিতে পরশু দিন অবধি লেখা আছে।  এটা আপনার মেয়ের ঘর থেকেই পাওয়া গেছে আর এতে লেখা আছে পরশু দিন মিলি আপনার বাড়ি এসেছিল।  এবার ভালোয় ভালোয় বলুন আপনার মেয়ে আর মিলি কোথায়?
- আমি নিজেও জানি না অফিসার। কাল সকালে যখন তৃষার ঘরে গেলাম তখন ওরা কেউ ছিল না। তারপর ই আমি মিলির মাকে খবর দিই।
-আচ্ছা আপনার স্ত্রী এখন কোথায়?মানে তৃষার সৎ মা।
-প্রায় তিন বছর হলো আমরা আলাদা থাকি...
-তাহলে মিলি প্রথম দিন কাকে দেখেছিল?
-আসলে তৃষার dissociative identity disorder ছিল।  তৃষার মা মারা যাওয়ার পর তৃষা মাঝে মাঝে নিজের মায়ের ভূমিকা পালন করতো। তৃষা ওর মায়ের মতো কালো জাদু পারতো। আমার আর তমঘ্নার বিয়ে হয়।  ওর আগের পক্ষের একটা ছোট মেয়ে ছিল।  তমঘ্না দুজনকেই নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসতো। কিন্তু তৃষা ওদের পছন্দ করতো না। তৃষা কালো জাদু করে ওদের মারার ও চেষ্টা করে।  তারপর থেকেই তমঘ্না মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকে। এরপর তৃষা ওর সৎ মায়ের ভূমিকা পালন করতে শুরু করে।  সৎ মাকে খারাপ প্রতিপন্ন করার জন্য নিজেই নিজের ক্ষতি করতো।  সেদিন মিলি তৃষাকে দেখেছিল।

এরপর তৃষার বাড়ির পিছনের জঙ্গলে মিলির মৃত দেহ পাওয়া যায়।  শরীরে কোনো কাটার চিহ্ন ছিল না তবে মনে হচ্ছিল কেউ সব রক্ত শুষে নিয়েছে। আশপাশে কালা জাদুর সামগ্রী ও পাওয়া যায়। পুলিশ তৃষার বাবাকে সন্দেহের বশে ধরে নিয়ে যায়।  বছর দুয়েক পরে জেলে তৃষার বাবার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।  শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও চোখ মুখ ছিল ফ্যাকাশে যেন কেউ সব রক্ত শুষে নিয়েছে...


Comments

  1. নতুন স্বাদ। ভালো লাগলো। 😊

    ReplyDelete
  2. Khubi valo hoyeche ..erkm aro pabar opekhhay thaklm .

    ReplyDelete
  3. Erokom choto golpo khub kom paoya jay... osaadharon..khub valo lege6e... Psychological Thriller..❤️.

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

পুরানো ছন্দে নতুন গোয়েন্দাগল্প

মুক্তি

ফুলমণি