মুক্তি
-Are you ok?
-Yeah, I am fine...
-আর কতদিন লোককে দেখাবে তোমরা "perfect couple"??
-যতদিন না তুই একটা চাকরি পাচ্ছিস। চাকরি পেয়ে আমাকে নিয়ে যাস্ এখান থেকে...
ঋদ্ধি উঠে নিজের ঘরে চলে গেল। full volume এ Linkin Park এর Numb গানটা চালিয়ে চেপে রাখা কান্নাটা আর control করতে পারলো না ঋদ্ধি। ছোটোবেলা থেকে মাকে দেখেছে সবকিছু সহ্য করতে শুধু ঋদ্ধির মুখের দিকে চেয়ে। সেই মায়ের সামনেই যদি কেঁদে ফেলত তাহলে মা যে আরও দুর্বল হয়ে পড়তো। দিনের পর দিন মানুষটা বাবার অত্যাচার সহ্য করে আসছে তবুও হাসি মুখে সংসারটা সামলায়। আর ঋদ্ধি মায়ের জন্য কিছুই করে উঠতে পারেনি।
এবার একটা চাকরি খুঁজতেই হবে। কিন্তু ঋদ্ধি যে গান ভালোবাসে...চাকরি পেলে ঋদ্ধি মাকে এই নরক থেকে নিয়ে যেতে পারবে। ওদিকে চাকরি পেলে সময়িতার বাবাও মেনে নেবে। সময়িতা আর ঋদ্ধির প্রেমটা তিন বছরের। তবুও যেন বিশ্বাসের একটা অভাব থেকে গেছে। কথায় কথায় শুধু ছেড়ে যাওয়ার ভয় দেখায় সময়িতা।
এসব ভাবতে ভাবতে ঋদ্ধি ডায়েরিটা খুলে বসল। আগের দিনের লেখাটা চোখে পড়তেই মনে পড়ে গেল সময়িতার সাথে দেখা করার আছে। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেরোতে যাবে ঠিক সেই সময় মা পিছু ডাকলো "বাবু আজ তাড়াতাড়ি আসিস। আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী। বাড়িতে অনেক লোক আসবে আর রাতে ডিনারটাও একসাথেই করবো।" ঋদ্ধি চুপচাপ শুনে বেরিয়ে গেল। মনে মনে বলল "এত কিছুর পরেও বিবাহবার্ষিকী!!"।
-wait...ফুচকার টাকাটা আমি দিচ্ছি। তোর নিশ্চয়ই wallet এ টাকা নেই...
-আমি যে বেকার সেটা বারবার প্রমান করা কি খুব দরকার সময়িতা? আমার pocket money আছে। আমি দিচ্ছি...
- সেই তো বাবার টাকা। নিজে কবে রোজগার করবি? দেখ আমার বাবা কিন্তু বেকার ছেলের সাথে আমার বিয়ে দেবে না...
-তুই তো জানিস আমি গান...
-হ্যাঁ তুই ভালো গান গাস মানলাম। কিন্তু তা দিয়ে তো পেট চলবে না। সব singer রা প্ল্যাটফর্ম পায়না আর নিজেকে দাঁড় করাতে সময় লাগে...
-তাহলে আমি কি করবো বল?
-তুই তোর বাবার company join কর। উনি কত successful দেখ...
-আমার মনে হয় তোর বাবাকে অন্য পাত্র দেখতে বল...ভালো থাকিস...
-ঋদ্ধি...
বাড়ি ফেরার ইচ্ছেটা আর নেই। মা যে বাড়ি যেতে বলেছিল তাড়াতাড়ি সেটা এতক্ষণে ভুলে গেছে ঋদ্ধি। রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে রাত করে বাড়ি ফিরল ঋদ্ধি। দরজা খোলাই ছিল। ঋদ্ধি ঢুকে দেখল টেবিলের ওপর কেক রাখা। সোফায় বাবা শুয়ে আছে আর হাতে মদের বোতল। আর এক কোণে মা চুপ করে বসে আছে । মায়ের মাথা ফেটে রক্ত পড়ছে আর সামনে ভাঙা কাঁচের বোতল। ঋদ্ধি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে মাকে নিয়ে চলে আসে মামার বাড়ি। মাকে আর ঐ নরকে ফিরতে দেয়নি ঋদ্ধি...
ডিভোর্স পেপারটা ঋদ্ধি নিজে গিয়ে বাবার থেকে সই করিয়ে এনেছিল।সময় বেশ কঠিন চলছিল। মায়ের আতঙ্কটা কাটাতে বেশ সময় লেগেছিল।
কেটে গেছে প্রায় পাঁচ বছর। ঋদ্ধি এখন নিজের music studio করেছে। মা এক সরকারি স্কুলের teacher। মায়ের জীবনে এখন এক নতুন মানুষ এসেছে । মায়ের ছোটোবেলার বন্ধু অবিনাশ সরকার। অবিনাশ আঙ্কেল মায়ের অনেক খেয়াল রাখে সাথে ঋদ্ধিরও। তাই ঋদ্ধি ঠিক করেছে মা আর অবিনাশ আঙ্কেলের বিয়ে দেবে। আর সেই বিয়েতে বাবাকে এনে দেখিয়ে দেবে মায়ের আসলে কি প্রাপ্য ছিল। শুনেছে বাবা নাকি আবার বিয়ে করেছিল। তবে কমবয়সি একটা মেয়েকে। তাদের নাকি তিন বছরের ছেলেও আছে।
-হ্যালো...
- মি.রায় বলছেন? ভালো আছেন?
-ঋদ্ধি?? কেমন আছিস?
-ওসব নাহয় পরে জানবেন। আগামী ১৫ তারিখ আমার মায়ের বিয়ে। আপনারা সপরিবারে আমন্ত্রিত।
১৫ই নভেম্বর দিনটা দেখতে দেখতে চলে এল। মায়ের মুখের এই হাসিটা দেখার জন্যই তো এত আয়োজন। এদিকে বাবাও নির্দিষ্ট সময়ে সপরিবারে উপস্থিত হলেন। বাবার সাথে সময়িতাকে আসতে দেখে ঋদ্ধি একটু অবাক হলো। বাবা সামনে এসে হাত বাড়িয়ে বলল
"ভালো আছিস তাহলে। ওহ্ আলাপটা করিয়ে দিই। এই যে আমার স্ত্রী সময়িতা রায় আর আমার ছেলে অভীক"। বলেই বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে চলে গেল। ঋদ্ধি দেখলো সময়িতাকে ঠিক মায়ের মতো লাগছে। সেই মায়ের মতো হাসি আর চোখের তলায় কালি। আর অভীকের চোখে সেই ভয় যেটা পাঁচ বছর আগে অবধি ঋদ্ধির চোখে ছিল।
-ভালো আছিস?
-হ্যাঁ...তুই? অবশ্য successful মানুষকে বিয়ে করেছিস। হাতে ওটা কিসের দাগ??
-(সময়িতা কথা ঘুরিয়ে বলল)গানের জগতে ভালোই নাম করেছিস। আমিই ভুল ছিলাম...
ঋদ্ধি বুঝতে পারলো বাবা সেই একই রয়ে গেছে । কিছু কথা বলার আগেই বাবা ওদের নিয়ে চলে গেল। ঋদ্ধি বুঝতে পারলো না খুশি হবে না দুঃখিত হবে। বিয়েটা ঠিক মতো মিটে গেল। এখন থেকে ঋদ্ধি,মা আর অবিনাশ আঙ্কেল একই বাড়িতে থাকবে। সবাই চলে যাওয়ার পর ঋদ্ধি নিজের ঘরে চলে গেল। full volume এ চালিয়ে দিল সেই Linkin Park এর Numb। পরেরদিন সকালে মা অনেকবার ডাকার পরেও ঋদ্ধি দরজা খুললনা। দরজা ভেঙে দেখা গেল ঋদ্ধি বিছানায় পড়ে আছে। হাতে একটা সিরিঞ্জ । ঘরে তখনও বারবার বেজে যাচ্ছে সেই গানটা। টেবিলের ওপর ডায়েরিটা খোলা। পুলিশ ডেডবডি আর ডায়েরি নিয়ে গেল। পোস্টমর্টেমে এল ড্রাগের ওভারডোজের জন্য মৃত্যু হয়েছে। আর ডায়েরিতে লেখা-
১২ই আগষ্ট ২০১৩- আজ প্রথম ড্রাগ নিলাম। বেশ আলাদা একটা অনুভূতি। মনে হচ্ছে সমস্ত যন্ত্রনা উধাও হয়ে গেছে।
২৪শে জানুয়ারী ২০১৪- ড্রাগটা এখন নেশা হয়ে গেছে। তবে ভালো আছি আমি।
১৭ই এপ্রিল ২০১৪- দুদিন হল আমি আর মা বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। খুব তাড়াতাড়ি আমি ডিভোর্সের ব্যবস্থা করবো। অবশেষে মা বাবার যাতনার হাত থেকে রেহাই পেলো। ওদিকে সময়িতাকেও মুক্তি দিয়েছি। বাবার দেখা ছেলের সাথে ভালো থাকবে আশা করি। কিন্তু আমার একটা সমস্যা রয়েই গেছে "ড্রাগস"...
২রা ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৫- তিন মাস হলো treatment করাচ্ছি। ড্রাগস নেওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছি....
১৫ই নভেম্বর ২০১৫- এক মাস হয়ে গেল ড্রাগ নিইনি। অনেক সুস্থ আছি। তবে doctor বলেছে আমি যদি আবার কোনোদিন ড্রাগ নিই তাহলে প্রাণসঙ্কটও হতে পারে।
১৫ই নভেম্বর ২০১৯- মা আর অবিনাশ আঙ্কেলের বিয়ে দিলাম। জানি এবার মা ভালো থাকবে। আজ বাবা এসেছিল সাথে সময়িতা আর ওদের ছেলে। বাবা বদলায়নি। সময়িতাও মায়ের মতোই কষ্ট পাচ্ছে হয়তো। বুঝতে পারছিনা খুশি হবো না দুঃখিত। ভালো তো বাসতাম সময়িতাকে। তবে আজ জানিনা কেন সেই টানটা আবার অনুভব হচ্ছে। চার বছর হয়ে গেল ড্রাগস ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু আজ যেন আবার টানছে। ড্রয়ারের এক কোণে সরিয়ে রেখেছিলাম যদি কোনোদিন লাগে...জানি ডাক্তার সাবধান করেছিল কিন্তু আজ আমার কিছু হলেও কারোর ক্ষতি হবেনা। সবাই সবার জীবনে ভালো আছে....
Follow us on :
Facebook page :
Instagram :
Twitter :

শুধু চোখ থেকে জল টা পড়তে বাকি ছিল রে শিশু!
ReplyDelete👌🏻👌🏻👌🏻👌🏻
Bhaiiii😶❤ kichu bolar nei . অনবদ্য❤
ReplyDeleteJust awsm ❤
ReplyDeleteBhai ki likhechis ❤️❤️❤️Just asadharan... Amader eram bhalo bhalo lekha aro gift kor..
ReplyDeleteOpurbo seriously vai darun likhe6is 🙂
ReplyDeleteKhub sundor hoeche aro likhte thak. 👍
ReplyDelete